তাকে ব্যার্থ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র হতে পারে নিজেদের ভেতর থেকে...

যানজট ও হকার ইস্যু মোকাবেলায় সফল হলে নিশ্চিৎ সাখাওয়াতের মনোনয়ন

143

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী কে হবেন এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কয়েকজন নেতার পক্ষে তাদের অনুসারীরা প্রচার চালাচ্ছেন।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। এছাড়াও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনিসুল ইসলাম সানি এবং জাকির খান-এর নামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের সমর্থকরাও নিজ নিজ নেতার পক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। দলীয় সূত্রের দাবি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান-কে। একই সঙ্গে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তও রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও যুক্ত রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে হাতে যে সময় রয়েছে সেই সময়ের মধ্যেই প্রশাসক হিসেবে তাকে কার্যকর ও দৃশ্যমান সাফল্য দেখাতে হবে। অর্থাৎ নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে পারলেই তার মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু সম্ভাব্য মনোনয়নকে ঘিরে এমন শর্তের আলোচনা রয়েছে, তাই অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্বাভাবিকভাবেই চাইবেন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে না পৌঁছাক যেখানে সাখাওয়াত হোসেন খান সফল প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং নানামুখী চাপের মধ্যেই তাকে কাজ করতে হতে পারে।
সচেতন মহলের মতে, এ অবস্থায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়ে নগরবাসীর আস্থা অর্জনই হতে পারে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।
বিশেষ করে যানজট ও হকার ইস্যু নারায়ণগঞ্জ শহরের সবচেয়ে আলোচিত সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নগরবাসীর মতে, ফুটপাত দখল, অবৈধ হকার এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের কারণে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রায়ই স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
অনেকের মতে, এই দুই ইস্যুতে কোনো ধরনের আপস করলে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রশাসক হিসেবে কঠোর ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে শহরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের কাজ ও সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে দিতে পারে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রার্থিতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কতটা সফলভাবে নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে পারেন। ##