শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্বপদে ফিরলেন মর্গ্যানের শিক্ষিকা লায়লা আক্তার

51

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ  মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক লায়লা আক্তার দীর্ঘ হয়রানি ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যো দিয়ে অবশেষে নিজ কর্মস্থলে ফিরেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন । এর আগে সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে লায়লা আক্তারকে স্বপদে বহাল রাখার এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশটি বাস্তবায়নের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি চিঠির সূত্র ধরে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব লায়লা আক্তারকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায়, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় অবিলম্বে তাকে তার পূর্বের পদ অর্থাৎ সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে বহাল রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

 

 বিদ্যালয়ে ফিরে গণমাধ্যমের কাছে গত ৫ আগস্টের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন লায়লা আক্তার। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে মব (বিশৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে আমার ওপর চড়াও হয়। সেসময় আমার সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আমাকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। অমানবিকতার চরম সীমা লঙ্ঘন করে তারা আমাকে বিদ্যালয়ের কোয়ার্টার থেকে বলতে গেলে এক কাপড়ে বের করে দেয়।”

তিনি আরও বলেন , দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই বিদ্যালয়ে নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করে আসছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণেই একটি চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এবং সুযোগ বুঝে মব সৃষ্টি করে তাকে সরানোর ষড়যন্ত্র করে। সেই সাথে নিজ কর্মস্থলে ফিরতে পেরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই শিক্ষিকা। তার এই প্রত্যাবর্তনে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের একাংশের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মাহাদী হাসান, খায়রুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন, মো.আমীর হোসেন, মো.এনামুল, আব্দুর রহমান, এইচ এম শাহানুর, প্রভাষক বাবুল হোসেন, জুবায়ের আহমেদ, মনিরা আক্তার, আরিফা আক্তার, তাপস অধিকারী, রাকিবুল রকি, রাম কৃষ্ণ দে, মো.শাহজালালসহ অন্যান্য শিক্ষক বৃন্দ।