অপহরণ মামলার বাদীকে হুমকি : অপরাধীদের শনাক্তে অগ্রগতি

118

ফার্স্ট নিউজ রিপোর্ট :
অপহরণ মামলার বাদী ব্যবসায়ী নেতা নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। ফতুল্লা থানা পুলিশ ভুক্তভোগীর বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে এবং হুমকিদাতাদের শনাক্তে প্রযুক্তিগত তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে। গতকাল বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি খোঁজ খবর নিচ্ছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ফতুল্লা থানার ওসি আবদুল মান্নান জানিয়েছেন,“ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ ডায়েরীর পর প্রাপ্ত একাধিক ভয়েস মেসেজ, কললিস্ট ও ডিজিটালি সম্পাদিত ছবি ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরগুলোর অবস্থান (লোকেশন) শনাক্তের কাজ চলছে। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে গতকাল দুইজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শিগগিরই তদন্ত গুটিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে মো. সোহাগ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা আবেদন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে পরিবারকে।
নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মহলেও এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একাধিক নেতা মনে করছেন, মামলার বাদীকে হুমকি দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা একটি গুরুতর অপরাধ। তারা বলেন, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী সমাজ আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সোহাগ বলেন, “আমি প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখেছি। তবে যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা যেন আইনের আওতায় আসে এটাই আমার দাবি। ন্যায়বিচার চাওয়াই যেন অপরাধ না হয়ে দাঁড়ায়।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ জুন নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে অপহৃত হয়ে পরে পটুয়াখালী থেকে উদ্ধার হওয়া মো. সোহাগের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা জামিনে মুক্তির পর থেকেই চাপ ও হুমকি বাড়ায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হলে শুধু ভুক্তভোগী নয়, বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে পুরো নারায়ণগঞ্জ। ##