নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ঝুলে আছে কাসেমীর মনোনয়ন...

সর্বত্র জোর প্রস্তুতি গিয়াস সমর্থকদের

164

স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতিতে অনেটাই বদলে গেছে হিসাব নিকাস। এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসাবে জমিয়ত নেতা মনির হোসাইন কাসেমীর মনোনয়ন এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অনেকের ধারনা ছিলো মনির হোসাইন কাসেমী পাবেন জোটের মনোনয়ন। কিন্তু গত ২৩ অক্টোবর সরকার নতুন নির্বাচনী বিধিমালা প্রনয়ন করে আরপিও সংশোধন করেছে এবং নয়া বিধি অনুযায়ী জোট করলেও দলগুলিকে তাদের নিজ নিজ দলের প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ফলে সেই হিসাবে মনির হোসাইন কাসেমীর দল হলো জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং এই দলের প্রতিক হলো খেজুর গাছ। তাই মনির হোসাইন কাসেমী জোটের মনোনয়ন পেলেও তাকে নির্বাচন করতে হবে খেজুর গাছ প্রতিক নিয়ে। কারন এই খেজুর গাছই হলো তাদের দলীয় প্রতিক। ফলে বৃহস্পতিবার এই ঘোষনা দেয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে একেবারে পাল্টে গেছে চিত্র। কারন তাকে বিএনপির নতেৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন দিলে আসনটিতে ধানের শীষ প্রতিক থাকছে না। যার ফলে খেজুর গাছের সাথে জামায়াতের দাড়িপাল্লা এবং অন্নান্য প্রতিকের লড়াই হবে। আর সেই ক্ষেত্রে এই আসনে সাবেক এমপি আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন মনোনয়ন পেলে পাল্টে যাবে চিত্র। কারন তিনি এমপি থাকাকালে ফতুল্লা থানা এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করে রেখে গেছেন। তাই ফতুল্লার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় তার সমর্থকরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
এদিকে এই আসনে এই মুহুর্তে বিএনপি নেতা আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারন হিসাবে জানা গেছে আসনটিতে মোহাম্মদ আলী এবং শাহআলম চেষ্টা করেও বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন না। হতকাল সর্বশেষ এই তথ্য জানা গেছে। সাধারন ভোটাররা মনে করেন আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিএনপির মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। কারন ফতুল্লায় তার উন্নয়নের ইমেজ খুবই পজিটিভ। সমাজে তিনি একজন ভালো মানুষ হিসাবে পরিচিত। তাই তিনি মনোনয়ন পেলে এলাকার উন্নয়ন হবে বলে সাধারন মানুষের ধারনা। এছাড়া বিগত বহু বছর ধরে তিনি ফতুল্লার মানুষের সুখে-দু:খে পাশে দাড়িয়েছেন। তিনি এমপি থাকাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। যার ফলে তার সময় এবং পরবর্তী কয়েক বছর এলাকায় কোনো জলাবদ্ধতা হয়নি। এবার তিনি আগেই ঘোষনা করেছেন তিনি বিজয়ী হলে অবহেলিত ফতুল্লাকে পরিকল্পিত উন্নয়ন করবেন। তাই গিয়াস উদ্দিন বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন। তবে তার সমর্থকরা মনে করেন দল যদি তাকে মনোনয়ন নাও দেয় তার পরেও তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। তবে তার সমর্থকরা মনে করেন এখনো তিনিই পাবেন বিএনপির মনোনয়ন।
এদিকে এই সময়ে এসে দুই কারনে মনির হোসাইন কাসেমীকে বিএনপি আসনটির মনোনয়ন নাও দিতে পারে। কারন,
১) তিনি ধানের শীষ প্রতিক পাচ্ছে না। ধানের শীষ একটি জনপ্রিয় প্রতিক। তাই তিনি যতি ধানের শীষ না পান তাহলে বিএনপির অন্ধ সমর্থকরাও তাকে ভোট নাও দিগতে পারেন। কারন আরো পরিস্কার ভাবে বুঝা যাবে তিনি বিএনপির কোনো প্রার্থী নন। প্রতিক হিসাবে খেজুর গাছ একেবারেই দূর্বল প্রতিক। তাই এই আসনে বিএনপির কোনো শক্ত প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে সেই প্রার্থী জিতে যেতে পারেন। বিশেষ করে আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তাহলে তিনি জিতে যাবেন। তা না হলে জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল জবব্বার দাড়ি পাল্লা নিয়ে নির্বাচন করলে তিনিও জিতে যেতে পারেন। তাই এসব বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত বিএনপির নিশ্চিৎ আসন এবং শক্ত ঘাটি নারায়ণগঞ্জ-৪ এ জমিয়ত নেতা কাসেমী মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে আসতে পারেন সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন।
২) জনপ্রিয়তার দিক থেকেও তিনি জনগনকে ঝাকুনি দেয়ার মতো কোনো নেতা নন কাসেমী। ইসলামী দল তথা কওমি মাদ্রাস ছাড়া আসনটির জনগনের সঙ্গে তার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এখন পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন প্রার্থী হিসাবে তার তেমন কোনো জনপ্রিয়তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তার নিজের গ্রাম কিছুটা জনপ্রিয়তা লক্ষ করা গেলেও আসনটির সাতটি ইউনিয়নের জনগনের সাথে তার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া এই আসনে যে ইসলামী ভোট রয়েছে সেই ভোটের বেশি ভাগই জামায়াত এবং চরমোনাই সমর্থক। কিন্তু জামায়াত এবং চরমোনাই জোট করলে ইসলামী ভোটের বেশির ভাগ তারাই পাবেন।
তাই এই দুই কারনে শেষ পর্যন্ত মনির হোসেন কাসেমী বিএনপি জোটের মনোনয়ন পান কিনা এটা নিয়ে বিরাট সংসয় দেখা দিয়েছে।
অপরদিকে আসনটিতে বিএনপি নেতা আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন, আলহাজ¦ শাহআলম এবং মোহাম্মদ আলী বেশ আটঘাট বেধে মাঠে নামার স্বিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদের মাঝে গিয়াস উদ্দিন এই আসনের সাবেক এমপি। সর্বশেষ তার স্বিদ্ধান্ত হলো এবার তিনি নির্বাচন করবেন এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন না পেলেও তিনি মাঠ ছাড়বেন না। কেনোনা যেকেনো মূল্যে নির্বাাচন করার জন্য তার প্রতি সমর্থক ও জনগনের ব্যাপক চাপ রয়েছে। আর সেই ক্ষেত্রে একজন জনপ্রিয় প্রার্থী হিসাবে গিয়াস উদ্দিনের জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলেই এই আসনের সাধারন ভোটারদের অনেকে মনে করেন। ##