মেম্বারের নাম বিক্রি করে বিশ হাজার টাকা আত্মসাত দেলোয়ার প্রধানের ভাতিজার

9

নারায়ণগঞ্জ ফার্স্ট নিউজ:

নারী ঘটিত বিষয়ে এলাকাবাসীর কাছে আটক দুই যুবককে ছাড়িয়ে নিতে এসে ২০ হাজার টাকা চম্পট দিলো বন্দর উপজেলাধীন কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধানের ভাতিজা পারভেজ প্রধান, এমন অভিযোগ খোদ ঐ দুই যুবকের চাচা কবির মিয়ার।

কবির মিয়া জানান, গত কয়েকদিন আগে রাত ১১টার দিকে আমার দুই ভাতিজাকে উত্তর মাসদাইর এলাকায় এলাকাবাসী আটক করেছে বলে খবর পাই। এমন খবর পেয়ে আমরা সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি নারী ঘটিত একটি বিষয়ে এলাকার লোকজন তাদের আটক করে স্থানীয় মেম্বার কামরুল হাসানের অফিসে আটক করে রেখেছে। মেম্বার সাহেবের সাথে আলোচনা করে, তারা এ ধরনের ভুল আর কখনো করবে না, এই অঙ্গিকার করে তাদের সেখান থেকে নিয়ে আসি। আসার সময় মেম্বারের অফিস থেকে বের হলে দেলোয়ার প্রধানের ভাতিজা পারভেজ প্রধান আমাদের বলে মেম্বার সাহেব তার ছেলে-পেলেদের বিদায় করবে, তাই কিছু টাকা লাগবে। আমি বললাম কত টাকা, সে বললো ৩০/৪০ হাজার টাকা লাগবে। আমি বললাম, এতো টাকা তো নাই, আমার কাছে ২০ হাজার টাকা আছে, তুমি ১৯ হাজার টাকা নাও। সে ঐ টাকা নিয়ে মেম্বারের রুমের দিকে যায়। একটু পরে ফিরে এসে বলে এতো কম টাকা নিতে চায়না, অনেক বলে কয়ে ম্যানেজ করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার কামরুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে আমার ওয়ার্ডের উত্তর মাসদাইর এলাকায় দুটি ছেলে ২টি মেয়ের পিছু নিয়ে তাদের বাড়িতে উঠে। তারা নাকি ঐ মেয়েদের রুমেও যায়। পরবর্তীতে ঐ মেয়েদের মা বাসায় চলে আসলে, ছেলে দুজন ছাদে গিয়ে পালায়। হৈ চৈ শুনতে পেয়ে এলাকার ছেলেরা ভেবেছে তারা হয়তো চুরি করেছে। তাই তাদেরকে ধরে, ফোন দিয়ে আমাকে আমার অফিসে আসতে বলে এলাকাবাসী। তখন আমি অফিসে আসলে, পুরো ঘটনা শুনি এবং তাদের মোবাইল ফোন চেক করে ঐ মেয়েদের সাথে কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখতে পাই। আমি তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো ডিলেট করাই। এসময় জানতে পারলাম ঐ ছেলেদের একজন ঐ মেয়েদের সম্পর্কে বেয়াই হয়। এর কিছুক্ষণ পরই দেলোয়ার প্রধানের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে পারভেজ প্রধান নামে একটি ছেলে আমার কাছে আসে, তাদের ছাড়িয়ে নিতে। পারভেজ আবার ঐ ছেলেদের গার্ডিয়ানদের খবর দেয়। গার্ডিয়ান তথা কবির নামে এক ব্যক্তি ঐ ছেলেদের চাচা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়। এসময় তিনি তার ভাতিজাদের শাসন করেন এবং এ ধরনের ভুল আর কখনো হবে না বলে মৌখিক অঙ্গীকার করে। পরে চাচার জিম্মায় তার ভাতিজাদের ছেড়ে দেই।

পরবর্তীতে, এলাকার যে ছেলেগুলো ঐ ২ ছেলেকে ধরে আমার অফিসে নিয়ে এসেছিলো, তাদের একজন গত বুধবার নিজের স্ত্রীকে নিয়ে ফতুল্লায় গেলে ঐ ২ ছেলে আরও কিছু লোকজন নিয়ে তাকে আটক করে এবং তাকে বেদম প্রহার করে। এসময় মুন্না নামে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন দিয়ে বলে, মেম্বার যে ২০ হাজার টাকা নিছেন তা ফেরত দেন। আমি বলি, আমি কোনো টাকা নেই নাই। তখন তারা বলে, পারভেজ (দেলোয়ার প্রধানের ভাতিজা) আপনার নাম বলে ১৯ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি তাদের বললাম, আমি কোনো টাকা নেই নি, টাকা নেয়ার তো প্রশ্নই আসে না। আমি তো ওদের চাচা কবিরের জিম্মায় তার হাতে তুলে দেই। এখন কে আমার নাম বলে টাকা নিয়েছে তা আপনারা খোঁজ নিন এবং আইনগত ব্যবস্থা নিন। পরে মুন্না নামে ঐ ব্যক্তি আমাকে বলে, দুঃখিত ভাই আমাদের ভুল হয়েছে, টাকা কে নিয়েছে তা আমরা বুঝতে পেরেছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পারভেজ প্রধান বলেন, আমি কোনো টাকা নেই নি। আর টাকা নেয়ার কোনো ঘটনাই তো ঘটেনি। কামরুল মেম্বার কোনো টাকা চায় নি, আমি কবির ভাইয়ের সাথে আলাপ করছি।