মুসলিমনগরের এতিমখানা থেকে তারা মেইল পর্যন্ত মাদকের পাইকারী বাজার, বেড়েছে অপরাধ কর্মকান্ড...

লাদেন ও শাহাদাত বাহিনীসহ একাধিক বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

229
লাদেন ও শাহাদাত বাহিনীসহ একাধিক বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

নারায়ণগঞ্জ ফার্স্ট নিউজ:

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন মুসলিম নগর এলাকায় কাউন্টার বসিয়ে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে লাদেন গ্রুপ ও শাহাদাত গ্রুপ নামে ২টি সন্ত্রাসী বাহিনীসহ একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবতাকে কাজে লাগিয়ে মুসলিমনগরের তারা মেইল ও শাহিল গ্রুপের সামনে গড়ে উঠেছে মাদক-সন্ত্রাসসহ ভয়ানক অপরাধীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। সকল গ্রুপের অপরাধীরাই প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ নানা অপরাধের জন্ম দিয়ে স্থানীয়বাসীর জীবন যাত্রাকে করে তুলেছে অসহনীয় যন্ত্রণাময়।

ফতুল্লা থানা পুলিশের নজরদারির অভাবে ও কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যদের মাসোহারার কারণে মুসলিমনগর এলাকায় চলছে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। দিনে-রাতে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের বেচাকেনা। আবার মাদকাসক্তরা ভোরে কিংবা সন্ধ্যার পর মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছিনতাই করছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদক নির্মুলের জন্য পুলিশ মোটেও আন্তরিক নয়। মাদকের গডফাদারদের না ধরে মাঝে মধ্যে ২/১জন মাদক সেবিদের আটক করে পুলিশ তাদের দায়িত্ব শেষ করে। অথচ মাদকের চিহ্নিত এই স্পটগুলোর দিকে পুলিশের নজর নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদকের চিহ্নিত গডফাদাররা কাউন্টার বসিয়ে মাদক বিক্রি করছে এই এলাকায়। তাদের কাছে টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে এসে পাইকারী বিক্রি করছে বড় বড় মাদকের ডিলাররা। সূত্র জানায়, টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অভিনব কায়দায় মুসলিমনগর এলাকায় নিয়ে আসে লাদেন ও শাহাদাত গ্রুপ। লাদেন গ্রুপের প্রধান লাদেন ও শাহাদাতের প্রকৃত পরিচয় পুলিশের অজানা নয়। এরাই আশেপাশের এলাকাসহ মূল শহরে মাদক সরবরাহ করে। প্রতিটি গ্রুপে ১৩-১৮ বছর বয়সী অন্তত ৩০ জনের ২টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। গ্যাং গুলোর সদস্যরাই চাহিদামতো বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের কাছে মাদক সরবরাহ করে বলে জানায় স্থানীয়রা।

মুসলিমনগরের এতিমখানা, তারা মেইল, শাহিল গ্রুপের মোড় এলাকাগুলো কিছুটা ভিতরের দিকে হওয়ায় এবং বিসিকের প্রায় ১০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীদের অধিকাংশই শ্রমিকই এই এলাকায় বসবাস করায় শহরতলীর বাইরে এগুলোই বড় বড় স্পট হিসেবে পরিচিত মাদক কারবারীদের কাছে। মূলত বিশাল এই শ্রমিক শ্রেণী, উঠতি বয়সের তরুন-তরুণীদের কেন্দ্র করে মাদকের এই বিশাল বাজার।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্পটগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় গাঁজা ও ইয়াবা। গার্মেন্টস শ্রমিকরাই এর ক্রেতা। এখান থেকে গাঁজার বড় বড় চালান যায় শহরের বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়া, ইয়াবার কাস্টমার হচ্ছে বিভিন্ন এলাকার তরুন তরুণী ও খুচরা ডিলাররা।

স্থানীয়রা জানায়, দিনে-রাতে তারা মেইল ও শাহিল গ্রুপের মোড়ে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি হয়। এখান থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও সহজেই মাদক কিনে নিতে পারে। এতিমখানা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, পুরো মুসলিমনগর এলাকায়ই দিনে রাতে প্রকাশ্যে মাদকের বেচাকেনা চলে। নির্বিঘ্নে মাদক সংগ্রহ করতে পারায় অনেকের সন্তানই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।

মুসলিমনগরের এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, সামনে বিসিক থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছি। এলাকাটা আগে অনেক শান্ত ছিলো। কিন্তু সেই শান্ত এলাকাটা এখন মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে সরেজমিনে তারা মেইল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাদক ক্রয়ের জন্য উঠতি বয়সী তরুণরা মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির হচ্ছে। সেখান থেকে মোবাইলে তারা মাদক বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে একটু আড়ালে গিয়ে মাদক সংগ্রহ করছে। স্থানীয় একজন জানান, দিনে রাতে এখানে সমানতালে মাদক বিক্রি হয়। রাতে এখানে বসে মাদকের আসর। তিনি বলেন, পুলিশ এদিকে আসে টাকা তোলার জন্য। টাকা তুলে আবার চলে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানায়, শুধুমাত্র মাদকের কারণে পুরো এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্মও বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশী। লাদেন ও শাহাদাত বাহিনী বাহিনীর সন্ত্রাসীরা প্রায় সময় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রাতে এই দুই গ্রুপের সন্ত্রাসীরা দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। উভয় গ্রপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ভয়ে এলাকার দোকান-পাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ স্থানে চলে যায়। রাস্তা ঘাট মূহুর্তেই ফাকা হয়ে যায়। এলাকাবাসীর মাঝে আতংক ছড়িয়ে পরে। পুরো এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান বলে জানায় স্থানীয়রা। তারা জানায়, এই দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষের মূল কারন হলো মাদক ও ছিনতাই। এদের কে আবার শেল্টার দিচ্ছে স্থানীয় বড় ভাইয়েরা। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে এই দুই বাহিনীর সদস্যরা প্রায় সময়ই সংঘর্ষে জড়ায়।

জানা যায়, লাদেন বাহিনীর প্রধান লাদেন ও শাহাদাত বাহিনীর প্রধান শাহাদাতের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, লাদেন ও শাহাদাত বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে মুসলিমনগর এলাকায় যে কোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এমন কি খুনের মতো ঘটনা ও ঘটতে পারে।