স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়াটিয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খাজিদা বেগম (৩০) নামে এক নারী ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে সন্ত্রাসী রানা ও মুসা নামে দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর বাজার রেললাইন বস্তি এলাকায় ভাড়াটিয়া নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী খাজিদা বেগমের দাবি, তিনি সেলিমের ভাড়ার বাসায় অবস্থানকালে অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করলে খাজিদা বেগম তাদের গালাগাল করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তাকে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে অপর অভিযুক্ত উসকানি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তার পরিহিত জামা-কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় এবং চুলের মুঠি ধরে টেনে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাকে ঘুষি ও লাথি মারারও অভিযোগ করা হয়েছে।
খাজিদা বেগমের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দেন।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে সত্যতা পেয়েছে পুলিশ
এদিকে অভিযোগটির তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ঘটনাটি তদন্ত করেছেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার পর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী খাজিদা বেগম বর্তমানে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।




