মাদক ব্যবসার আঞ্চলিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ফতুল্লার গাবতলীর দোহার ভিলার পেছনের আমতলা মাঠ

161

স্টাফ রিপোর্টার :
জেলার ফতুল্লা থানার উত্তর মাসদাইর গাবতলী এলাকায় মাদক ব্যবসার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে যা পুরো জনপদকে অস্থির করে তুলেছে। বিশেষ করে দোহার ভিলার পেছনের মাঠ বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত আমতলা মাঠটি এখন এই অঞ্চলের মাদক ব্যবসার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী এখানে দিন এবং রাত সমান তালে মাদক কেনাবেচা চলে যা এখন ওই এলাকার সবচেয়ে বড় মাদকের হাট হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার মতো মরণঘাতী মাদকের পসরা সাজিয়ে বসে মাদক কারবারিরা এবং প্রতিদিন এখানে কয়েক লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। এই বিশাল মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছে দূর্ধর্ষ এক মাদক ব্যবসায়ী যার নাম মোহাম্মদ উৎস যে কি না চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পেটাকাটা রকির অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এই স্পটে অন্তত পঞ্চাশজন মাদক বিক্রেতার জমায়েত ঘটে যা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য মাঠটিকে অনিরাপদ করে তুলেছে।
এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ আক্ষেপ করে বলছেন যে আমতলা মাঠটি একসময় শিশুদের খেলার জায়গা ছিল কিন্তু এখন সেখানে অপরাধীদের আনাগোনা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এই মাঠের আশেপাশে পাঠাতে ভয় পান কারণ মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের বেপরোয়া চলাফেরায় সামাজিক পরিবেশ পুরোপুরি কলুষিত হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভের সাথে জানান যে এই উৎসের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাহিনী পুরো এলাকা জিম্মি করে রেখেছে। কেউ যদি প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে তবে তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হতে হয় অথবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। গাবতলী এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান যে তারা বহুবার দলবদ্ধ হয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে মাদক বন্ধের আকুতি জানিয়েছেন কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি। উল্টো পুলিশি অভিযানের কথা শুনলে মাদক ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে গা ঢাকা দিলেও পুলিশের গাড়ি এলাকা ছাড়ার পরপরই আবার তারা স্বরূপে ফিরে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন যে পেটাকাটা রকি ও তার সহযোগী উৎসের ক্ষমতার উৎস এতই গভীর যে তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। মাঠের পাশে বসবাসকারী গৃহবধূরা জানান যে মাদকসেবীদের ভিড়ের কারণে তারা জানালার পর্দা খোলার সাহস পান না এবং সন্ধার পর কোনো মেয়ে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর মতে যদি এখনই এই স্পটটি গুঁড়িয়ে দেওয়া না হয় এবং উৎস ও রকির মতো মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা না হয় তবে এই এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি জেলা পুলিশ সুপার এবং র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আমতলা মাঠের এই অভিশপ্ত মাদকের হাট চিরতরে বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ##