বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান বলেছেন, দেশজুড়ে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে এক মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ধারাবাহিক এ সংকটের ফলে এরই মধ্যে সারাদেশের প্রায় ১৫০টি স্পিনিং মিল (সুতা উৎপাদনকারী কারখানা) বন্ধ হয়ে গেছে। একই সাথে তাঁতপ্রধান এলাকাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ তাঁতি।
তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দাভাব থাকায় সামগ্রিক টেক্সটাইল খাত এখন চরম সংকটে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকটের কারণে মাধবদী, নরসিংদী, শেখেরচর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইলের সিংহভাগ তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সুতার বাজার অস্থিতিশীল ও উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্থানীয় এসব তাঁত কারখানার ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ শ্রমিক এখন কাজ হারিয়ে বেকার জীবনযাপন করছেন।
আন্তর্জাতিক বাজার ও পোশাক খাতের প্রভাব
অর্ডার কমে যাওয়া এবং তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতের সার্বিক স্থবিরতাও এই সংকটকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এম সোলাইমান বলেন, একসময় দেশের পোশাক খাতের প্রয়োজনীয় সুতার প্রায় ৮০ শতাংশই সরবরাহ করত দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো। কিন্তু বর্তমানে পোশাক খাতের মন্দা ও আমদানিকৃত সুতার প্রভাবে দেশীয় কারখানাগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।
টার্নওভার ট্যাক্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের কথ তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদন সংকটের পাশাপাশি ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স নির্ধারণ করায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যাংকে লেনদেনের ক্ষেত্রে ১ কোটি টাকা লেনদেনে ১ লাখ টাকা ট্যাক্স কেটে নেওয়ার নিয়ম ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসা করে যেখানে কোটি টাকায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করাই কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে ১ লাখ টাকা ট্যাক্স হিসেবে কেটে নেওয়া হলে ব্যবসা পুরোপুরি লাটে উঠবে। লাভ-লোকসান যাই হোক, এভাবে লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপ কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।”
সংকট সমাধানের দাবি জানিয়ে সুতা ব্যবসায়ীদের এ নেতা আরও বলেন, চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দূর করা এবং টার্নওভার ট্যাক্সের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা না হলে দেশের টেক্সটাইল ও তাঁত শিল্প পুরোপুরি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা এই খাতকে বাঁচাতে সরকারের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করছেন।




