অসহায় মানুষের সহায়তায় নিয়োজিত তার কল্যান ট্রাস্ট...

পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেও ষড়যন্ত্রের শিকার সফল উদ্যোক্তা সোহাগ

263

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের অন্যতম শিল্প উদ্যোক্তা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগকে ঘিরে একের পর এক সংকট ও বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এই উদ্যোক্তা অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং দীর্ঘমেয়াদি অনলাইন ব্ল্যাকমেইল চক্রের শিকার হওয়ার আগে তিনি রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, শত বাধা ও চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে তিনি দেশে থেকে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন। আরো বহু মানুষের কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও অসহায় মানুষের সহায়তায় তার প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার কথাও জানা যায়।
তবে এই সাফল্যের বিপরীতে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা নিরাপত্তা সংকট। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে অপহরণ করে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছিল। সেই ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি, বরং অপহরণের সময় জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চালানো হচ্ছে পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি।
ভুক্তভোগীর দাবি, অপহরণের পর থেকে তার ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ডকুমেন্ট ব্যবহার করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। কখনও ভুয়া সাংবাদিক, কখনও অনলাইন মিডিয়াকর্মীর পরিচয়ে বিদেশি নম্বর থেকে তার কাছে অর্থ দাবি করে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। অথচ তিনি মানুষের কর্মসংস্থান করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। সততা ও দক্ষতার সহিত গড়ে তুলছেন বড় শিল্প গ্রুপ। যার ফলে এখনই তার পাশে সরকারের দাড়ানো জরুরী হয়ে পরেছে। কেনোনা তার মতো ব্যবসায়ী যদি দেশে স্বাচ্ছন্দে ব্যবসা করতে না পারেন তাহলে ব্যবসাবানিজ্যে এগুতে পারবে না দেশ।
এদিকে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাকে উদ্দেশ্য করে “রাজনৈতিক দোষর” হিসেবে ট্যাগিং করার চেষ্টা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ী মহল বলছে, একজন শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে তাকে সব সরকারের সাথেই কাজ করতে হয় এবং সেটিই বাস্তবতা। এটা সব ব্যবসায়ীর বেলায়ই প্রযোয্য। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতো মোহাম্মদ সোহাগকেও ট্যাগিং করা অবৈধ সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
ব্যবসায়ী মহলের মতে, মোহাম্মদ সোহাগ কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ নন; বরং শিল্প ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখার স্বার্থে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে বাধ্য হন। ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে এই বাস্তবতাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।
একজন ঘনিষ্ঠ শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, তিনি যদি তখনকার স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে সমন্বয় না করতেন, তাহলে তার শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকে থাকাই কঠিন হতো। এতে হাজারো শ্রমিক কর্মচারী পথে বসত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সোহাগ অভিযোগ করেছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে তিনি আরো বহু মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারবেন। এতে সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ আর বাঁচবে এ দেশের সাধারন মানুষ।
অন্যদিকে অপহরণ মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুন তোলারাম কলেজের সামনে থেকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে একাধিক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তারা আদালতে জবানবন্দিতে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আলামিন ওরফে জিতুর নাম উল্লেখ করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা পিবিআই, ডিবি ও এসবি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল ডেটা যাচাইয়ের মাধ্যমে পুরো ব্ল্যাকমেইল চক্র শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে একদিকে অপহরণ ও অনলাইন ব্ল্যাকমেইল চক্রের আতঙ্ক, অন্যদিকে রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের অভিযোগ সবকিছু মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা। ##