সীমাহীন দূর্ভোগ স্থানীয়দের, দেখার কেউ নেই ...

জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে কবে মুক্তি পাবে ফতুল্লার টাগারের পাড়বাসী

167
জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে কবে মুক্তি পাবে ফতুল্লার টাগারের পাড়বাসী

নারায়ণগঞ্জ ফার্স্ট নিউজ:

ডিএনডির ফতুল্লা ইউনিয়নের টাগারের পাড় এলাকায় বৃষ্টিপাতের দুই দিন পরেও নামেনি বৃষ্টির পানি। ওই এলাকায় রাস্তায় হাটু সমান পানি। কোথাও কোথাও হাটুর উপরে পানি। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে সাধারন মানুষের বাড়িঘর, দোকানপাট এবং কলকারখানা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ লাইন থেকে টাগারের পাড় এলাকায় প্রায় অর্ধ শতাধিক মিল কারখানা রয়েছে। এখানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার শ্রমিক কাজ করে। তাদের অধিকাংশই বসবাস করেন এই এলাকা এবং আশপাশের এলাকায়। আর তাদের বেশির ভাগই হলো নারী শ্রমিক। ফলে জলাবদ্ধতা ভেঙ্গে তাদেরকে কারখানায় গিয়ে কাজ করতে হয়। ফলে তাদের দুর্ভোগের কোনো সীমা নেই।

এছাড়া এমন ভয়ানক জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকার কারখানাগুলিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। রাস্তার উপর এতো পানি জমে আছে যে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারছে না। ফলে কারখানার মালিকদেরও কপালে চিন্তার ভাজ পরেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, টাগারের পাড়ে বসবাসকারী সাধারন মানুষ জানিয়েছে, বছরের পর বছর ধরে এ এলাকায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে। আর এবারের বৃষ্টিপাতেতো চরম আকার ধারণ করেছে। তারা বলছে, এবার আমাদের ঘরে ঘরে পানি ঢুকেছে।

এ বিষয়ে ওই এলাকার বাড়ির মালিক হাসান আলী বলেন, সত্য কথা বলতে গেলে বলতে হয় টাগারের পাড়ে বাড়ি করে বিরাট ভুল করেছি। কারন এখানে শুধু বর্ষাকালে নয়, সারা বছরই রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকে। তাই এই এলাকায় এখন আর ভালো কোনো ভাড়াটিয়া আসে না। অনেক বাড়িতেই টু-লেট ঝুলছে। মাসের পর মাস খালি পড়ে আছে বাড়ি। অথচ গ্যাস বিল সহ নানা খরচ তো রয়েছেই।

তিনি আরো বলেন, আমরা গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে ধর্না দিচ্ছি। কিছুদিন আগে চেয়ারম্যান সাহেব এসেছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। আমরা এলাকাবাসী চাঁদা দিয়ে ড্রেন এবং খাল পরিস্কার করেছি। কিন্তু পানি নামছে না। এ বিষয়ে সরকারী ভাবে কোনো উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে না। তাই আমরা চরম দূর্ভোগের মাঝে দিন কাটাচ্ছি।

একই বিষয়ে একজন গার্মেন্ট মালিক জানিয়েছেন, রাস্তায় সারাক্ষণ পানি থাকার কারনে কারখানাগুলিতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। কারণ সারা বছরই এই এলাকার রাস্তাঘাট ভেজা স্যাত স্যাতে হয়ে থাকে। ছেলে-মেয়েরা ঘর থেকে বের হতে পারে না। এলাকাটি দিনদিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তাই অনেক কারখানায়ই পর্যাপ্ত শ্রমিক নেই।

তিনি আরও বলেন, যতো দিন যাচ্ছে ততোই পরিস্থিতি ঘোলাটে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারনে এলাকা ছাড়ছে বহু মানুষ। আর এবারের বৃষ্টিতে যেভাবে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে তাতে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাড়ায় বলতে পারছি না। সত্যি খুব টেনশানে আছি। মূলত এভাবেই টাগারের পাড়ের মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন।