চাষাড়ায় ৫ আগস্টের সেই আবেগঘন মুহূর্ত, সৌরভের ক্যামেরায় ইতিহাস

34

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। শেখ হাসিনার পতনের পর সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের রাজপথেও নেমে আসে মানুষের ঢল। বিকেলে চাষাড়ায় বিজয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন হাজারো মানুষ। সেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই সাধারণ মানুষ। হৃদয়স্পর্শী সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন নারায়ণগঞ্জের ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার ও জুলাইযোদ্ধা সৌরভ ভূঁইয়া।

এক ফ্রেমে ধরা পড়া সেই ছবিতে বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, কষ্ট, স্বস্তি ও মুক্তির আবেগ যেন একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক মুহূর্তের এই দৃশ্য পরবর্তীতে মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌরভ ভূঁইয়ার ধারণ করা ছবিটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সৌরভ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও গণআন্দোলনে ক্যামেরা হাতে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে তাৎক্ষণিক ঘটনার বাইরে নিয়ে গিয়ে ইতিহাসের দলিল হিসেবে ক্যামেরায় ধরে রাখাই ছিল তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনেও তিনি ক্যামেরা নিয়ে নিয়মিত রাজপথে ছিলেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, সংঘাত, আবেগ এবং বিজয়ের মুহূর্তগুলো তিনি সরাসরি ক্যামেরাবন্দি করেন। তাঁর ধারণ করা ছবিগুলোর অনেকগুলোই সেই সময়ের রাজপথের বাস্তবতা, মানুষের ক্ষোভ ও আবেগের গুরুত্বপূর্ণ ভিজ্যুয়াল দলিল হয়ে আছে।

চাষাড়ায় ৫ আগস্ট বিকেলে ধারণ করা এই ছবিটিও সেই ইতিহাসেরই একটি আবেগঘন মুহূর্ত। বিজয়ের পর দুই সাধারণ মানুষের আলিঙ্গন ও কান্নার দৃশ্যটি যেন পুরো আন্দোলনের দীর্ঘ পথচলা, ত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ধরা দিয়েছে এক ফ্রেমে।

নারায়ণগঞ্জের এই ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার ও জুলাইযোদ্ধার ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিটি এখন স্থান পেয়েছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে। একটি সাধারণ মানুষের আবেগঘন মুহূর্তকে ইতিহাসের অংশ করে তোলা এই ছবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের বিজয়ের আবেগের একটি স্মারক হয়ে থাকবে।