এলাকাবাসীর সম্মিলিত স্বিদ্ধান্ত...

গাবতলীতে মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষনা করে মাইকিং

212

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গাবতলী সোসাইটি। এলাকাকে মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাখতে মাদক সেবন, বিক্রি ও বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট, মোড় ও অলিগলিতে কিশোর-যুবকদের দলবদ্ধভাবে অযথা আড্ডা, হৈচৈ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সোসাইটির সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে গাবতলী এলাকার বাড়িওয়ালা ও বাসিন্দাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, মাদক বিস্তার, কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া আড্ডা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে অযথা আড্ডা বন্ধে ঐকমত্যে পৌঁছান স্থানীয়রা।

গাবতলী সোসাইটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, “আমরা সোসাইটির সভা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শনিবার রাতে এলাকার সকল বাড়িওয়ালা ও বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিয়ে মিটিং করেছি। সেখানে সবাই একমত হয়েছেন—গাবতলী এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাস বরদাশ্ত করা হবে না।”

তিনি বলেন, “এলাকার রাস্তাঘাটে অহেতুক কোনো আড্ডা সহ্য করা হবে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দলবদ্ধভাবে রাস্তায় বসে আড্ডা দেওয়া কিংবা হৈচৈ করে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা মেনে নেওয়া হবে না। কেউ এসব সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।”

সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় মাদক সেবন, বিক্রি ও বহনের পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও মাদক ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সোসাইটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে কিশোর-যুবকদের অযথা আড্ডা থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সোসাইটি। সন্তানদের চলাফেরা, সন্ধ্যার পর বাইরে অবস্থান এবং কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, “আমরা কিশোর-যুবকদের বিরুদ্ধে নই। তারা আমাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু তাদের মাদক, সন্ত্রাস কিংবা অপরাধের পথে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের খেলাধুলা, সামাজিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে।”

গাবতলী সোসাইটির এ উদ্যোগকে এলাকাবাসী স্বাগত জানিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, স্থানীয় বাসিন্দা, বাড়িওয়ালা, অভিভাবক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে গাবতলীকে মাদক ও অপরাধমুক্ত একটি নিরাপদ আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।