নারী ও শিশুদের জখম করে থানায় গিয়ে ঘুরছে অপরাধী হান্নান!...

এসআই হামিদুলের প্রশ্রয়েই মুসলিমনগরে হামলার অভিযোগ

78

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ থাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও ভূমি দস্যুতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দল বিএনপির নাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট আল আমিনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কিছু অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ফতুল্লা থানার মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় একটি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, হান্নান নামের এক অপরাধী বিকেলে প্রায় ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ নিয়ে এলাকার একটি পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নারী ও শিশুদের মারধর করা হয় এবং কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হন বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আহতরা পরে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার শিকার রুবিনা ইসলাম (৪৫) বাদী হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে তিনি অভিযুক্ত হান্নানকে থানার ভেতরে ফতুল্লা থানার এসআই হামিদুল ইসলামের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে তিনি এবং তার পরিবার আরো ভিতসন্ত্রস্ত হয়ে পরেন। পুলিশ মামলা নিতেও গড়িমশি করছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো অভিযোগ করেন পুলিশের সাথে গভীর সখ্যতা থাকার কারনেই হান্নান সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাদের উপর হামলা করতে সাহস পেয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, হামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের অবস্থা দেখেছে এবং নারী-শিশুদের মারধরের আলামতও পেয়েছে। তবুও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানার ভেতরে দেখা যাওয়ার অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ফতুল্লা থানা এলাকায় ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে হামলার পর হান্নান থানায় গিয়ে এসআই হামিদুল ইসলামের সাথে কেনো ঘুরাফিরা করছিলেন মুঠো ফোনে জানতে চাইলে হামিদুল ইসলাম বলেন, “থানা সকলের জন্য উম্মুক্ত। আমি একজনকে দেখেছিলাম, পরে দেখি সে নাই।”
এর বেশি তিনি কিছু বলতে রাজী হননি এই এসআই। বিষয়টি পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবেন বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী। ##