সদর উপজেলার ছয় সড়ককে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত...

উন্নয়নে বদলে যাবে সদরের সাত ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা

192

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ছয়টি সড়ককে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সড়ককে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্কের আওতায় এনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন করার লক্ষ্যে সড়কগুলোর গুরুত্ব নির্ধারণ ও তথ্য যাচাই করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক, সড়ক অগ্রাধিকার ও তথ্য যাচাইকরন’ বিষয়ক উন্নয়ন কর্মশালায় এসব সড়ককে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কর্মশালায় সংশ্লিষ্টরা জানান, সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এসব সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন করা গেলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।

কর্মশালায় চিহ্নিত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মধ্যে রয়েছে—ডিগ্রীরচর খেয়াঘাট থেকে কাশীপুর হাটখোলা হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাপ্পী চত্বর পর্যন্ত সড়ক; পঞ্চবটি থেকে মুসলিমনগর, বক্তাবলী হয়ে মুন্সিগঞ্জের তালতলা পর্যন্ত সড়ক; ফতুল্লা পোস্ট অফিস থেকে শিবু মার্কেট হয়ে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক; বক্তাবলী থেকে মুন্সিগঞ্জের বেতকা পর্যন্ত সড়ক এবং কুতুবপুর এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।

স্থানীয়দের মতে, এসব সড়কের বেশিরভাগই সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কোনো কোনো সড়ক আবার নারায়ণগঞ্জ শহর, শিল্পাঞ্চল, নদীবন্দর ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। ফলে সড়কগুলোর উন্নয়ন শুধু স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করবে না, একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

বিশেষ করে ডিগ্রীরচর খেয়াঘাট থেকে কাশীপুর হাটখোলা হয়ে বাপ্পী চত্বর পর্যন্ত সড়কটি সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের শহরমুখী যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে পঞ্চবটি-মুসলিমনগর-বক্তাবলী হয়ে মুন্সিগঞ্জের তালতলা এবং বক্তাবলী-বেতকা সড়ক দুটি নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফতুল্লা পোস্ট অফিস থেকে শিবু মার্কেট হয়ে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটিও ফতুল্লা ও আশপাশের জনবসতির মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পকারখানা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব সড়ক ব্যবহার করেন।

কর্মশালায় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা, জনসংখ্যার চাপ, যানবাহন চলাচলের পরিমাণ, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কোর রোড নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক উন্নয়ন করা হলে সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

কর্মশালায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন, ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম, সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাত, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টিসহ সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা, প্রয়োজনীয়তা ও অগ্রাধিকারের বিষয়ে মতামত দেন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাই করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সদর উপজেলার সাত ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রশস্ত ও টেকসইভাবে উন্নয়ন করা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা, খানাখন্দ ও চলাচলে দুর্ভোগের কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারাও পণ্য পরিবহনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন।

এ অবস্থায় কর্মশালায় চিহ্নিত ছয়টি সড়ককে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন করা হলে সদর উপজেলার গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে শহর ও পাশের জেলার যোগাযোগ আরও সহজ, নিরাপদ ও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কৃষি ও শিল্পপণ্যের পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।