ফার্স্ট নিউজ রিপোর্ট :
অপহরণ মামলায় সাক্ষ্য ও মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিতে ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সাধারণ ডায়েরীর প্রেক্ষিতে ফতুল্লা থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
ফতুল্লা থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মো. সোহাগের দায়ের করা সাধারণ ডায়েরীটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রূপান্তরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হুমকিদাতাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, ভয়েস মেসেজ এবং ডিজিটালভাবে সম্পাদিত ছবি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান বলেন,
“সাধারণ ডায়েরীর ভিত্তিতে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। হুমকির সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার।”
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একাধিক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে এভাবে ভয়ভীতি দেখানো শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি ব্যবসা পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় নারায়ণ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা মো. সোহাগ বলেন,
“আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই মামলা তুলে নেইনি। কিন্তু এখন আমাকে ও আমার পরিবারকে যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি শুধু ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ জুন নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে অপহৃত হয়ে পটুয়াখালীতে উদ্ধার হওয়া মো. সোহাগের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীরা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পায়। এরপর থেকেই মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার দিকে এখন নজর পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর। ##




