মাদক-সন্ত্রাস নিয়ে জনগনের নজরধারীতে না.গঞ্জের ৫ এমপি

77

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো মাদক ও সন্ত্রাস দমন। শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এ জেলার অর্থনৈতিক গুরুত্ব যেমন বেশি, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও রয়েছে। ফলে নতুন জনপ্রতিনিধিদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নির্বাচনের সময় প্রায় সব প্রার্থীই মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছেন। তবে এখন দেখার বিষয়, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।
নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নতুন এমপিরা ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগও নিয়েছেন।
ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও শহরের কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় এখনও মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ শোনা যায়। তবে তারা আশা করছেন নতুন এমপিরা বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
ফতুল্লার এক ব্যবসায়ী বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এখন যদি সত্যিই মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।
অন্যদিকে কয়েকজন তরুণের মতে, মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জে মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তারা মনে করেন, নতুন এমপিদের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলে জনগণের আস্থা বাড়বে, আর ব্যর্থ হলে সমালোচনাও বাড়বে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। ##