কাসেমী ও শাহআলমের মাঝেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

237

স্টাফ রিপোর্টার :

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এবারের নির্বাচন যেন এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত দুই প্রার্থীকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে বিএনপি সমর্থিত মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহআলম। অন্য প্রার্থীরা যদিও তালিকায় রয়েছেন, কিন্তু জনসম্পৃক্তি ও প্রচারণার দিক থেকে তারা এই দুই নেতার তুলনায় পিছিয়ে। এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। শিল্পাঞ্চল, শ্রমজীবী মানুষ এবং ব্যবসায়ী শ্রেণি মিলিয়ে এখানে ভোটারদের চাহিদা ও মনোভাব বহুমাত্রিক, যা প্রতিটি নির্বাচনী কৌশলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাসেমী মাঠে নেমেই দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় সমর্থন পাচ্ছেন। তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত তিনি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। গণসংযোগ, পথসভা ও স্থানীয় বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, তার দলের ঐক্য ও সংগঠিত প্রচারণা তাঁকে শক্ত অবস্থানে রাখছে। এছাড়া তিনি স্থানীয় সমস্যার সমাধান, উন্নয়নমূলক কাজ ও নাগরিক সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহআলম নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং সামাজিক পরিচিতি কাজে লাগিয়ে ভালো দাড়িয়েছেন। তিনি এলাকায় ‘সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তিপ্রিয়’ প্রার্থীর ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তরুণ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতাদের সমর্থন তাঁর জন্য বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করছে। দলীয় সীমাবদ্ধতা ছাড়া সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগই তাঁর প্রধান শক্তি। তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায় ও পেশার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ভোটের আগে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।
এই আসনে আরও কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও প্রচারণা ও জনসংযোগের ক্ষেত্রে তাঁরা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে। ফলে ভোটারদের মনোযোগ মূলত কাসেমী ও শাহআলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভোটার উপস্থিতি, দলীয় শক্তি বনাম ব্যক্তিগত প্রভাব এবং শেষ মুহূর্তের জনমত এই তিনটি প্রধান উপাদান আসনটির ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাসেমীর সংগঠিত প্রচারণা ও শাহআলমের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা নির্বাচনের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এবারের নির্বাচন দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর দলীয় শক্তি বনাম আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহআলমের ব্যক্তিগত প্রভাব এই দ্বন্দ্বই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে। ভোটের দিনই প্রকাশ করবে আসল বিজয়ীর নাম। নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শেষ মুহূর্তের জনমতের পরিবর্তন সবই ফলাফলের দিকে প্রভাব ফেলবে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনবাসী এখন উত্তেজনা ও আগ্রহের মধ্যে, যেটি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সময় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ##