টিপুর বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়

ওসমানদের সন্ত্রাসীরা কি জাকির খানের শেল্টারে?

7

আমজাদ হোসেন :

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবু আল ইউসুফ খান টিপুর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। টিপু বলেছেন, জাকির খানের সঙ্গে যারা রয়েছেন, তারা সবাই ওসমান পরিবারের লোক। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে জাকির খানের অনুসারী ও টিপুর অনুসারীদের মধ্যে প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে।

জাকির খানের অনুসারীরা টিপুর বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে তার ব্যক্তিগত হিংসা ও ঈর্ষার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করছেন। তাদের বক্তব্য, নারায়ণগঞ্জে জাকির খানের জনপ্রিয়তা ও তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়েই টিপু এমন মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, জাকির খানের সঙ্গে থাকা সবাইকে ওসমান পরিবারের লোক হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

অন্যদিকে টিপুর অনুসারীদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, জাকির খান ওসমান পরিবারের সঙ্গে আতাত করে রাজনীতি করছেন। তাদের ভাষায়, জাকির খানের রাজনীতি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়; বরং রাজনীতির আড়ালে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটছে।

টিপুর অনুসারীরা আরও অভিযোগ করছেন, জাকির খানের আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ গত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরে আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমানের সঙ্গে প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমানে ওই ব্যক্তিদের অনেকে জাকির খানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তথ্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি দাবির পর্যায়েই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জাকির খানের অনুসারীদের পক্ষ থেকেও এসব অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নেতার অনুসারীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাকির খানকে ঘিরে এই বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। এক পক্ষ তাকে জনপ্রিয় বিএনপি নেতা হিসেবে তুলে ধরছে, অন্য পক্ষ তার রাজনৈতিক অবস্থান ও অনুসারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ফলে আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বক্তব্যের পর মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—জাকির খানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় কী, অতীতে তাদের কার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং বর্তমানে তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত। একই সঙ্গে টিপুর অভিযোগের পেছনে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ কতটা রয়েছে, সেটিও এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বাইরে গিয়ে এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের দাবি উঠেছে। কারণ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অভিযোগ যতটা গুরুতর, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই অভিযোগের পক্ষে থাকা নথি, প্রত্যক্ষ প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জনসম্মুখে আসা।