অনুদান নিলো দল, অপমান করলেন এমপি, প্রশ্নবিদ্ধ এনসিপি

89

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আবদুল্লা আলআমিন সম্প্রতি বিকেএসইএ সভাপতি এম এ হাতেমকে “ফ্যাসিস্টদের দোসর” আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সমালোচনার মুখে পড়েছে এমপির নিজের দলও। ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে যেমন বিতর্কিত, তেমনি নৈতিক প্রশ্নও তৈরি করেছে।

সমালোচকদের প্রথম ও প্রধান যুক্তি হলো—বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA) সভাপতি এম এ হাতেম একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা। ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো সময়কার ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখা একজন ব্যবসায়ী নেতার জন্য অস্বাভাবিক নয়। অতীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় যেমন তিনি সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন, তেমনি বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি সরকারের সঙ্গেও কাজ করতে হচ্ছে—এটিকে রাজনৈতিক দোসরতা বা ফ্যাসিবাদের সহচরতা হিসেবে আখ্যা দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয় বলে মত দিচ্ছেন অনেকে। তাদের ভাষায়, এটি বাস্তবতাবিরোধী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য।

দ্বিতীয়ত, যে ইফতার মাহফিলে এমপি আবদুল্লা আলআমিন এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন, সেই আয়োজনটি ছিল এনসিপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর। সমালোচকদের মতে, নিজেরা আমন্ত্রণ জানিয়ে এনে কোনো অতিথিকে প্রকাশ্যে অপমান করা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সামাজিক ভদ্রতার পরিপন্থী। এতে শুধু অতিথিকেই নয়, আয়োজক দল ও জোটকেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে এমপির বক্তব্যের সঙ্গে তার নিজের দলের অবস্থানের সাংঘর্ষিক বাস্তবতা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এনসিপির সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন এবং সিনিয়র নেতা সারজিস আলম গত ৫ আগস্টের পর এম এ হাতেমের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট ছবিও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এম এ হাতেম যদি সত্যিই “ফ্যাসিস্টদের দোসর” হন, তাহলে এনসিপির শীর্ষ নেতারা কেন তার কাছ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান নিলেন? এই দ্বিচারিতা দলের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এছাড়া সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করেন, এম এ হাতেম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নেতা। দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতের স্বার্থে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তাকে সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে হবে। এটি অপরাধ নয়, বরং বাস্তবতা। এমন একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক সভা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান করা দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির আচরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেই মত দিচ্ছেন তারা।

সব মিলিয়ে, এমপি আবদুল্লা আলআমিনের বক্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তিগত মন্তব্যের সীমায় নেই; এটি এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান, নৈতিকতা ও অভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্য নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে দল ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।